Posts

অপরাহ্নের শ্রী

এমন ভাদ্রে ক্ষণে ক্ষণে আকাশটা কালো হয়, নামে বৃষ্টি, স্পষ্ট হয় বিকেল, আর রেল লাইনটা করে চিকচিক । লম্বা লাইনটা ধরে বিকেল বেলার হাঁটার যে নেহাত বর্ণনা, তা না দিলেও শ্রোতাদের বুঝতে কোন অসুবিধা তো হবেই না বরং আশা রাখি বাস্তব দৃশ্যরূপও চোখের সামনে বোধগম্য হবে! তবে হাতের গুচ্ছ ফুলেরতোড়ার নামতাও যে বলা প্রয়োজন আছে তাও এই মুহুর্তে বলার ইচ্ছে পোষন করছি না। সময়টা মাথায় রেখে এগুলাম মিনা, আয়ানদের বাড়ির দিকে। এক সময় উপস্থিত হলাম, কিন্তু কই অজয়া এতো দেরি করছে কেন? আজ কি তবে পড়াতে আসেনি? হাত ঘড়িটায় চেয়ে দেখি প্রায় ছটা বাজে, সন্ধ্যার উপক্রম আবার বৃষ্টি নামবে নামবে অবস্থা ! হঠাৎ দৃষ্টি প্রসারিত হল দূরে চলে যাওয়া রেল লাইনটার দিকে, মুহূর্তে অন্বেষণ করলাম সাদা শাড়ি ও সাদা ছাতা মাথায় করে দ্রুত হেটে আসছে আমার আশাব্যঞ্জন সত্য মূর্তি!  কাছাকাছি হওয়ার পর:"তুমি এখানে?" আমি:"না এলে কোথায় পেতাম হে?" "শুভ জন্মদিন!! " বলে ফুলেরতোড়াটা সামনে এগিয়ে দিলাম। আর, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গানের মতই, "এক গোছা রজনীগন্ধা, হাতে দিয়ে বললাম। চললাম! চললাম!" --রিজভী নাভি...

নক্ষত্র ধরে কুলে

দৃষ্টি নিযুত আলোকবর্ষ দূরে। একটি নক্ষত্রের গতি, বেমালুম পথ থেকে বিচ্ছিন্ন। তাক করা টেলিস্কোপে লক্ষ্য নাবিকের। কেবল নাবিক জানে, কোন নক্ষত্র ধরে কুলে ভিড়তে হয় ! ঢেউে ঢেউে- দূর থেকে দূরে বহু দূরে অসার দূরত্বে। মেলানো কি যায় ব্যবধান? --রিজভী নাভিন

ঈদে গ্রামের বাড়ি

ঈদে গ্রামের বাড়ি এসেছি, আজ তৃতীয় দিন অর্থাৎ এই মুহুর্তে ঈদ এর তৃতীয় রাত, আকাশে ভরাট চাঁদ, জানলার কাছে বসে আছি, বাইরে কাগজী লেবুর বাগান, বাগানের ওপাশটায় একটা রাস্তা চলে গেছে কিছু দেখা যাচ্ছে না, এমন ঝোছনার মৃদু আলোতেও তা অস্পষ্ট। কিছুক্ষণ আগে যে দৃশ্যটা চোখে পরে ছিল তা হল এই: রাস্তার অপারে একটা গাছ দারিয়ে আছে নামটা ঠিক আমার জানা নেই। ছোট মিহি পাতা, ডাল পালা গুলো বিশদ চিকন, প্রতিটা ডালের শীর্ষে বসে আছে এক প্রকার পাখি দেখে মনে হয় অনেকটা বক পাখির মত কিন্তু বেশ বড় সরো ! স্ থানীও অনেকেই বলছেন এগুলো অন্যদেশ থেকে এসেছে নাম শামুকভাঙ্গা বা শামুককেচা ! ইদানিং প্রচুর ভিড় জমাচ্ছে আমাদের বাড়ির সামনে এবং অন্যান্য বড় গাছ গুলোতেও বসেছে। দিনের বেলাতেও দেখেছিলাম, কিন্তু এমন ঝোছনায় তাদের দেখে মনে হয়, পাখি গুলো গাছের ফল কিংবা গুচ্ছ গুচ্ছ ফুলের স্তুব! যা ডালের ফাকে ফাকে বসে আসে নিশ্চুপ হয়ে অর্থাৎ তাদের ছাড়া গাছ নেহাতপক্ষে সত্যিকার অসুন্দরই মনে হয়। তবে আরো আশ্চর্যান্বিত বিষয় এইযে, এই সময় ২০১৭ সালে এমন দৃশ্য! বিগত কয়েক বছর ধরে অনেক পাখিই আর তেমন একটা দেখা যায়না, যেমন টুনটুনি,দোয়েল, ফিঙে,বুলবুলি সহ আরো ...

ছায়া ও পথ । (কবিতা)

দূ র আকাশের ছায়াপথ রেখা ধরে ধরে, নিরভ্র তাকে মিলিয়ে যায় লেখা, রেখাহীন, ছায়া, মায়াই চুপি সারে । -- রিজভী নাভিন

অস্পষ্ট ঘোর ( অণুগল্প)

Image
️ 📝  -এই অসময়ে মেঘগুলো ঢেকে দিয়েছে আকাশটাকে ! বাহিরে এক দৃষ্টিতে আর চেয়ে থাকতে পারলাম না । ঘরে এসে কাঠের বাক্সটা খুলে পেলাম সেই কবেকার পুরনো ধূলো জড়ানো একটি পত্র ! পর পর লম্বা দুটো ফুঁ দিয়ে ধূলিকণা গুলো তাড়িয়ে দিলাম। স্থির মনে ভাবলাম, এখনতো আর সেদিন নেই। তাতে ভেসে উঠলো, কিছু প্রাক্তন স্মৃতি ও সরল হাতে নিমজ্জিত, সজ্জিত ঘোলাটে হয়ে যাওয়া লেখাগুলো। আর বিদারক অভিমানগুলো গচ্ছিত সমাপ্তির শেষ সারিতে । থেকে থেকে তা যেন আমার চোখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মনে মনে বলি, কি পেয়েছি আমি? সে যায় হোক,সময় পাল্টে গেছে । নিজের কাছে নিজেই স্বার্থপর হয়ে গেছি এখন! জানলার কাছে গিয়ে জং ধরা গ্রিলের ফাকে তাকিয়ে দেখি দূসর মেঘ, কিছু ভেজা পাখিও তাতে ডানা মেলে চলেছে অজানার পথ ধরে, দূরে। হাতের চিঠিটা বাহিরের বৃষ্টির ফোটার দিকে এগিয়ে দিয়ে অনুভবে পেলাম এক হিম অনুভূতির ছোঁওয়া ! আরো পেলাম বিদ্যমান সেই সময়, অতীত ও এক অভিমানীর ঘোর উষ্ণতা!! --রিজভী নাভিন August 23 at 3:06am

একবিন্দু (কবিতা)

হাজার বছর আগে একবিন্দু সরষে ছিলাম। শুরুতেই, ফুল হয়ে ঘ্রাণ ছড়িয়েছি, প্রজাপতিরা বসে ছিল গায়ে। কেও মুগ্ধ হয়ে ছিল,হাত বুলিয়ে ছিল আমাদের উপর। জমে থাকা কুয়াশার নীহারে হতো স্নান। স্বর্ণোজ্জ্বল রোদ এসে শুকিয়ে দিতো সমস্ত অঙ্গ। বাতাস লেগে ছিল সর্বস্ব জুরে, দুলে ছিলাম এদিকওদিক । সময়ে, ঝরে গিয়েছিলাম নিয়মে। আবারো জন্ম নিয়েছি হাজার, অগণিতবার এই স্থলে, একি রূপে আবার!! --রিজভী নাভিন

প্রশাখার আখ্যান !! ( অণুগল্প)

বাড়িটা ফাঁকা অনেক দিন ধরে । ভোর থেকেই আজ প্রতিটা রুমে, বেলকনি, খাওয়ার ঘড়ে পায়চারি করছেন দাদু । আজ দাদুর ঘোরাঘুরির উদ্দেশ্য একটাই, আজ তার ও ছোট কাকুর জন্ম দিন ! ছোট কাকুর রুমে গিয়ে ক্ষান্ত চোখে, দেওয়ালে ঝুলানো কাজী নজরুলের ছবিটাতে এক পলক দৃষ্টি দিলেন তারপর পেছনে ফিরে মোটা চশমাটা খুলে বড় ফ্রেমে বাঁধাই করা ছবিটাতে ভালো করে হাত বুলিয়ে চশমাটা আবার চোখে নিলেন । ফ্যামিলির সবাই এক সাথে হাসি মুখে জরিয়ে ধরে ছবিটা তোলা হয়েছিল আজ থেকে প্রায় চার বছর আগে । আবার হাত বুলালেন বড় ছেলে ও আমার বাবা আজাদের উপর আবার মেজো ছেলে আমার মেজো কাকু হেমনের উপর ও নাতি ঝুথি, বাঁকিদের মুখটিতে করুন দৃষ্টিতে অশ্রু সিক্ত চোখে হাত বুলালেন । যে বাড়িটা মেতে থাকতো নাতীদের দুস্তমিতে আজ ফাঁকা, শুন্য, নিস্তব্দ একেবারেই ফাঁকা । একজন বাবা হিসেবে ছেলেকে হারানোর যেমন অভিজ্ঞতা হয় দাদুর ও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। পাচক এসে খবর দিলো বাবু নাস্তা হয়ে গেছে খেতে আসুন । দাদু বললেন আলান উঠেছে । পাচক বললেন না এখনো উঠেনি । একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ওকে আর ডেকে কি হবে । সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় একবার তাকালো দাদির ছবিটাতে । নিচে এসে টেবিলের...